প্রিন্ট ভিউ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাস থামানোকে কেন্দ্র করে ট্রাকচালক ও বাসের যাত্রীদের মধ্যে বিরোধের জেরে বাসের চালক, হেলপার ও কন্ট্রাক্টরকে মারধর এবং বাস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাসের হেলপার মো. রুস্তম আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বোয়ালমারী মহিলা কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকচালক লোকজন নিয়ে এসে বাসটি থামিয়ে লোহার রড দিয়ে বাসের গ্লাস ও জানালায় আঘাত করেন এবং চালক-হেলপারকে মারধর করেন।
বাসের যাত্রী ও স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুমা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি লোকাল বাস আলফাডাঙ্গা থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। বাসটি শেখর ইউনিয়নের গঙ্গানন্দপুর এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক বেপরোয়া গতিতে এগিয়ে আসে। এ সময় বাসচালক বাসের গতি কমিয়ে সাইড দিলে ট্রাকচালকের সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়। পরে বাসের কয়েকজন যাত্রীও ট্রাকচালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর ট্রাকচালক বোয়ালমারী মহিলা কলেজের সামনে বাসটি থামিয়ে লোকজন নিয়ে আসেন। এরপর তারা বাসে হামলা চালিয়ে গ্লাস ও জানালা ভাঙচুর করেন এবং বাসের চালক, হেলপার ও কন্ট্রাক্টরকে মারধর করেন। এতে হেলপার মো. রুস্তম আহত হন।
বাসের এক নারী যাত্রী বলেন, এ ঘটনায় ট্রাকচালকেরই দোষ। তিনি বাস থামিয়ে আমাদের চালক ও হেলপারকে মারধর করেছেন।
বাসচালক মো. ইমরান মিনা বলেন, সহস্রাইল বাজার থেকে গঙ্গানন্দপুর এলাকায় যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি ট্রাক বেপরোয়া গতিতে আসছিল। ট্রাকটি এড়িয়ে যেতে আমি বাসের গতি কমিয়ে সাইড দিই। এরপরও ট্রাকচালক বাসটিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। পরে মহিলা কলেজের সামনে বাস থামিয়ে ট্রাকচালক লোকজন নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালান এবং বাস ভাঙচুর করেন। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
আহত বাসের হেলপার মো. রুস্তম অভিযোগ করে বলেন, ট্রাকচালক লোকজন নিয়ে এসে আমাদের মারধর করেছে। এ সময় আমার পকেটে থাকা টাকাও নিয়ে গেছে।
তবে ট্রাক মালিকপক্ষের বাপ্পী অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, আমার ট্রাকের চালক ও হেলপার ইনসুর মোল্যাকে আগে মারধর করা হয়েছে। পরে মহিলা কলেজের সামনে বাস আটকিয়ে তাদেরও মারধর করা হয়। বিষয়টি এভাবে না করলেই ভালো হতো। কেন আমার চালক ও হেলপারকে মারা হলো, সেটিও দেখতে হবে। আমরা বাস মালিক ও ট্রাক মালিক বসে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করব।
এ বিষয়ে ট্রাকচালক ইনসুর মোল্যার বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বাসের কিরানি নাজিমুদ্দিন মিলু বলেন, বাসের চালক বা হেলপার কোনো অপরাধ করলে আমাদের জানানো যেত। আমরা বিষয়টি দেখতাম। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে হামলা ও ভাঙচুর করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এ ঘটনায় বাসের গ্লাস ও জানালা ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলে উভয় পক্ষের সূত্রে জানা গেছে।