প্রিন্ট ভিউ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পরিচয় শনাক্ত না হওয়া সেই মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ছোলনা গোরস্থানে তার দাফন করা হয়। মানবতার সেবক হিসেবে পরিচিত সুমন রাফি নিজ অর্থায়নে মরদেহের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বোয়ালমারী থানা পুলিশ।
এর আগে শনিবার সকালে পৌরসভার আজহার মার্কেটের সামনে স্টেশন রোড থেকে অজ্ঞাত ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিসিটিভি ফুটেজে শুক্রবার রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে ওই নারী কাজী আব্দুর রশিদ মার্কেটের সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলার ছাদে উঠতে দেখা যায়। পরে ভোর ৪টা ১৯ মিনিটের দিকে তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। ওই সময় স্টেশন রোড দিয়ে একটি ইজিবাইক যাওয়ার কারণে তার আলোতে ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় আংশিকভাবে ধরা পড়ে।
ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ওই নারী গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পড়ে যাওয়ার সময় মাথায় আঘাত লেগে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
পরে শনিবার দুপুরে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। সন্ধ্যায় মরদেহ বোয়ালমারীতে নিয়ে আসার পর মাগরিবের নামাজের পর ছোলনা গোরস্থান মাদরাসা প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ছোলনা গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় নিহত নারীর রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
সুমন রাফি বলেন, ওই নারীর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরে পুলিশের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নিই। নিজের অর্থায়নে জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেছি। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।
বোয়ালমারী থানা পুলিশ জানায়, নিহত নারীর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বোয়ালমারীতে আনা হয়। পরে স্থানীয় সুমন রাফির সহযোগিতায় তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পরিচয়হীন এক নারীর মরদেহের শেষকৃত্যে এগিয়ে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে সুমন রাফির উদ্যোগটি প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই বলছেন, সমাজে এখনো মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা বেঁচে আছে।