প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে একটি পারিবারিক মন্দিরে কালী প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরে শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক নারী প্রতিমার চুল মাথায় নিয়ে এবং মন্দিরের ডাব (নারকেল) সঙ্গে নিয়ে বাজারে ঘোরাঘুরি করার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করেন।
রোববার (২১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের বড়নগর রেলগেট এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় শীলদের বাড়ির পারিবারিক মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি মন্দিরের পাশে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে মন্দিরে প্রবেশ করে কালী প্রতিমার ঘাড়ের অংশ ভেঙে চুল খুলে নেন এবং মহাদেবের একটি অংশ নিয়ে যান। একই সঙ্গে মন্দিরে থাকা দুটি ডাবও নিয়ে বের হয়ে পড়েন।
পরে প্রতিমার চুল মাথায় দিয়ে সাতৈর বাজারে ঘুরতে থাকলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। এ সময় বাজারের লোকজন তাকে আটক করে। খবর পেয়ে মন্দিরের লোকজন সেখানে গিয়ে তার কাছে থাকা ব্যাগ থেকে প্রতিমার চুল, মহাদেবের অংশ ও ডাব উদ্ধার করেন।
সঞ্জয় শীলের মা অঞ্জলী রানী রায় বলেন, আমার নাতি জাম পারতে গিয়ে মন্দিরের দিকে তাকিয়ে দেখে কালী প্রতিমার মাথা ভাঙা এবং মহাদেবের অংশ নেই। পরে জানতে পারি স্বপ্না নামের এক পাগলী এ কাজ করেছে। আমরা কোনো অভিযোগ করিনি। আমাদের এলাকায় হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলেমিশে বসবাস করি।
সঞ্জয় শীল বলেন, স্থানীয়রা ওই পাগলীকে আটক করে খবর দেয়। পরে তার কাছ থেকে মন্দিরের জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় আমরা বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ করিনি। পরে তাকে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ওই পাগলী ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার নাম স্বপ্না বেগম। তিনি প্রায় ১৫ বচর আগে পাগল হয়ে বিভিন্ন স্থানে ভবঘুরে হয়ে বেরাচ্ছে বলে জানায় পরিবার।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একজন মানসিক প্রতিবন্ধী নারী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
তিনি আরও বলেন, জানা গেছে, ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং প্রায় ১২ বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন।