প্রিন্ট ভিউ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে। মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে তার প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের মালিখালী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া মালিখালী গ্রামের মানিক মোল্যার ছেলে মামুন মোল্যা একটি প্রাইভেটকার নিয়ে এলাকায় আসেন। এ সময় তাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে সন্দেহ করে কয়েকজন লোক তাকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে এবং তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মামুনের বাবা মানিক মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে ফরিদপুর আদালতে একটি মাদক মামলায় হাজিরা দিয়ে বাড়িতে এসেছিল। পরে দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে বিকেলে ঢাকায় যাওয়ার জন্য তার চাচা শ্বশুরের প্রাইভেটকার নিয়ে বের হয়। পথে তাকে আটক করে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেকে মারধর করার পর গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার কাছে কোনো মাদক ছিল না। এলাকাবাসী কিংবা পুলিশ কেউ কোনো মাদক উদ্ধার করতে পারেনি। সে এখন ভালো পথে ফিরেছে।
মানিক মোল্যা বলেন, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, আদালত আছে। কিন্তু এভাবে জনতার হাতে মারধর করে শাস্তি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে ভয়ে হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি। তার আশঙ্কা, নাম বললে তার পরিবার আরও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, এলাকায় মাদক নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তবে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামুনের নামে মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা তাকে মারধর করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাকে থানায় আনা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তার কাছ থেকে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহল বলছেন, অপরাধ দমনে জনসচেতনতা প্রয়োজন, তবে সন্দেহের বশে কাউকে শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।